মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল প্রতিনিধি
পবিত্র মাহে রমজান অর্ধেকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনিয়ে আসছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে নড়াইল জেলা সহ কালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল নড়াগাতীর গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়িতে দর্জি ও টেইলার্সদের ব্যস্ততা দিন দিন বাড়ছে। নতুন পোশাক তৈরিতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় দর্জিদের।
ঈদ মানেই নতুন পোশাকের আনন্দ। সেই আনন্দকে ঘিরে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন টেইলার্স দোকানগুলোতে এখন ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ছোট-বড়দের জন্য পাঞ্জাবি, পায়জামা, সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের বাহারি পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জিরা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরাই বেশি ভিড় করছেন গ্রামের এসব টেইলার্স দোকানে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই স্বল্প আয়ের হওয়ায় শহরে গিয়ে দামী পোশাক তৈরি করা বা আধুনিক টেইলার্সে কাপড় বানানো অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে ঈদ এলেই গ্রামের দর্জি দোকানগুলোই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান ভরসা। তুলনামূলক কম খরচে এবং পরিচিত পরিবেশে পোশাক তৈরি করতে পারায় গ্রামের মানুষ স্থানীয় দর্জিদের কাছেই বেশি ভিড় করেন।
তবে যাদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তারা ঈদের নতুন পোশাক তৈরি করতে কালিয়া উপজেলা শহর কিংবা নিকটবর্তী জেলা শহর গোপালগঞ্জ ও খুলনায় গিয়ে আধুনিক টেইলার্স দোকানে কাপড় তৈরি করছেন বলেও জানা গেছে।
সরেজমিনে নড়াগাতীর বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শুধু দোকানেই নয়—অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ উদ্যোগে বাড়িতে বসেই সেলাই মেশিন দিয়ে পোশাক তৈরির কাজ করছেন। ঈদ মৌসুমকে ঘিরে বাড়তি আয়ের আশায় অনেক নারী-পুরুষই এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। ফলে অনেকের ঘরেই ছোট পরিসরে গড়ে উঠেছে দর্জির কাজের ব্যস্ত পরিবেশ।
পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী ফারহানা খানম বলেন, “আমি আগে শখের বসে সেলাইয়ের কাজ শিখেছিলাম। ঈদের সময় এ কাজের চাহিদা বেশি থাকায় এখন বাড়িতে বসেই পোশাক তৈরি করে কিছু আয় করতে পারছি। এতে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতেও কিছুটা সহায়তা হচ্ছে।”
অন্যদিকে বাঐশোনা গ্রামের এক বিধবা নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমার সংসারের আয় খুবই সীমিত। তাই ঈদ এলেই বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করি। এতে যে আয় হয়, তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে পারি।”
নড়াগাতীর কলাবাড়িয়া, জয়নগর, বাঐশোনা, খাশিয়াল, মাউলি ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঈদকে ঘিরে এ ধরনের ব্যস্ততা এখন চোখে পড়ার মতো। একই চিত্র দেখা গেছে যোগানিয়া বাজার, পহরডাঙ্গা বাজার, নড়াগাতী বাজার, বড়দিয়া বাজার, মহাজন বাজার ও বাগুডাঙ্গা বাজারের দর্জি দোকানগুলোতেও।
স্থানীয় দর্জি ও টেইলার্স দোকানদাররা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শুরুতে নতুন পোশাক তৈরির চাপ কিছুটা কম মনে হলেও ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই কাজের চাপ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই আগেভাগেই কাপড় দিয়ে গেছেন এবং প্রতিদিনই নতুন অর্ডার বাড়ছে।
গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ মানেই নতুন পোশাক। আর সেই আনন্দকে বাস্তবে রূপ দিতে নড়াগাতীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্জিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। একই সঙ্গে ঈদ মৌসুম অনেকের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে, যা স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে