পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৭০ বিঘা চিংড়ী ঘেরের মধ্যে নেট ও বাঁধ দিয়ে বেআইনী ভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ঘের ব্যবসায়ী পৌরসভার বাতিখালী গ্রামের মৃত এফাজ উদ্দীন গাজীর ছেলে মোঃ রেজাউল করিম। ঘের মালিক রেজাউল করিম বাদি হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের ছহিল উদ্দিন মোল্লার ছেলে বিল্লাল মোল্লা(৫৫) ও একই এলাকার মৃত নাছের সরদারের ছেলে কালাম সরদার কে বিবাদী করে পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। রেজাউল করিম বলেন উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পারিশামারী মৌজায় স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে ডিডমূলে লীজ নিয়ে ১৭০ বিঘা জমিতে বিগত ১০ বছর যাবৎ শান্তিপূর্ণ ভাবে মৎস্য লীজ ঘের পরিচালনা করে আসিতেছি। প্রথম ৩ বছর পূর্বের ঘের মলিক আব্দুল মজিদ সানার ডিড অনুযায়ী, পরের ৫ বছর নিজের নামীয় ডিড অনুযায়ী এবং সর্বশেষ ২০২৫ সাল থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি ঘেরের চুক্তি রয়েছে। যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে লীজ ঘেরের মেয়াদ অনুযায়ী এখনো ৪ বছর নালিশী ঘেরে মৎস্য চাষ পরিচালনা করতে পারবো। ঘেরের মধ্যে স্থানীয় বিল্লাল মোল্লা ও কালাম সরদারের কিছু জমি রয়েছে।
এ সুযোগে তারা আমাকে না জানিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ভরা মৌসুমে আমার ভোগদখলীয় ১৭০ বিঘা চিংড়ী ঘেরের মধ্যে নেট জাল ও বেড়িবাঁধ দিয়ে বেআইনী ভাবে দখল করার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরও জমি পরিমাপ না করে প্রতিপক্ষ বিল্লাল এবং কালাম তারা নিজেদের ইচ্ছে মতো নেট জাল এবং বাঁধের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। ভুক্তভোগী ঘের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন তারা জমি পাবে আমার দিতে কোন আপত্তি নাই। তারা আলোচনা কিংবা যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসাবসি করে সমাধান করতে পারতো। বৃহৎ ঘেরের মধ্যে যত্রতত্র বাঁধ দিলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে বলে জানান ঘের মালিক রেজাউল করিম। অভিযোগ প্রসঙ্গে কালাম সরদার বলেন ক্রয় সূত্রে এবং ডিড অনুযায়ী ঘেরের মধ্যে আমার ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। ঘের ব্যবসায়ীকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পর ও আমার প্রাপ্য জমি বের করে না দেওয়ায় আমার বসতবাড়ী সংলগ্ন এলাকায় ঘেরের মধ্যে বাঁধ ও নেট জাল দিয়ে আমার অংশটুকু আলাদা করে নিয়েছি। এ প্রসঙ্গে থানার এসআই আয়ুব আলী জানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালাম এবং বিল্লাল কে বাঁধের কাজ বন্ধ রেখে থানায় বসাবসির জন্য ডাকা হয়েছিল। তারা কাজ বন্ধ করে নাই তবে থানায় এসেছিল। বিষয়টি অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে বলে থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।