নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনার দাকোপ উপজেলায় একটি মৎস্য প্রজেক্টে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মোঃ মিজান সানা (৪৪), উপজেলার রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, দাকোপ উপজেলার ৪ নম্বর কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের গাজী ফিস সংলগ্ন ম্যানগ্রোব রিসোর্টের উত্তর পাশে অবস্থিত “মেসার্স নুরাইয়া ফিস” নামের মৎস্য প্রজেক্টে তিনি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রজেক্টটির মালিক মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম হিন্দু মল্লিক।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে উক্ত মৎস্য প্রজেক্টের দখল ও ক্ষতিসাধনকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ৬ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা, লোহার রড ও পেট্রোল নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে প্রজেক্টে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা প্রথমে প্রজেক্টের সাইড বাসায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। পরে প্রজেক্টের চারপাশের নেট, বাঁশের চটা ও ঘেরা বেড়া খুলে ভাঙচুর করে আরও প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। মিজান সানা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে মারধরের জন্য তেড়ে আসে।
একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রজেক্ট এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি প্রজেক্টের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম হিন্দু মল্লিকের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং দাকোপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দাকোপ থানার ওসি বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।