
স্থানীয় প্রতিনিধি: দাকোপ বটবুনিয়া
চলমান শৈত্যপ্রবাহে যখন খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জনজীবন চরম বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খুলনা জেলা ইউনিট। সংগঠনটির উদ্যোগে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে দাকোপ থানার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে শত শত দুঃস্থ মানুষ অংশ নেন। শীতের তীব্রতায় যখন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে, তখন এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে দরিদ্র, শ্রমজীবী ও বয়স্ক মানুষ। বিশেষ করে দাকোপ উপজেলার নদীঘেঁষা ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষদের অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। কনকনে শীতে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খুলনা জেলা ইউনিট তাদের নিয়মিত মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে শীতার্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করার চেষ্টা করা হয়।
এই কম্বল বিতরণ কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন খুলনা জেলা ইউনিটের সুযোগ্য সেক্রেটারি এবং ফুলতলা উপজেলার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান এস এ রহমান বাবুল। তার নেতৃত্বে পুরো আয়োজনটি সুশৃঙ্খল ও সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
[caption id="attachment_18891" align="aligncenter" width="750"]
Image Source: রিপোর্টারের ছবি[/caption]
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান কে. এম. আশরাফুল আলম নান্নু। তিনি বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট সবসময় মানবতার পাশে থাকে। দুর্যোগ, শৈত্যপ্রবাহ কিংবা যে কোনো সংকটে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
মানবিক এই আয়োজনে খুলনা জেলা ইউনিটের নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য সরাসরি অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন মঈনুর রহমান মঈন, মোঃ রাজীব হুমায়ুন রাজু, মোঃ বদরুদ্দোজা বাবলু, এম. এ. মান্নান বাবলু, শেখ ফারুকসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও ইউনিট লেভেল অফিসার তরিকুল ইসলাম পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নেতৃবৃন্দের সরাসরি উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে কম্বল বিতরণ কার্যক্রমটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সংগঠনটির প্রতি আস্থা বাড়ে।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বটবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অসিত বাবু, প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার রায়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এতে করে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি সামাজিক ঐক্যের রূপ নেয়।
কম্বল পেয়ে উপকৃত মানুষদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একজন বৃদ্ধ শীতার্ত ব্যক্তি বলেন, “এই শীতে ঘরে ঘুমানোই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। আজ কম্বল পেয়ে অনেক উপকার হলো।” একইভাবে নারীরা ও শিশুদের মুখেও স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের মানবিক সহায়তা তাদের জন্য শুধু শীত নিবারণের উপকরণ নয়, বরং এটি তাদের প্রতি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের সহমর্মিতার প্রতীক।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ ও সংকটময় সময়ে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্যান্য দুর্যোগে সংগঠনটি সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
খুলনা জেলা ইউনিটও তার ব্যতিক্রম নয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিতভাবে ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা ও সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
সংগঠনের নেতারা জানান, শীত মৌসুম জুড়ে খুলনা জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাদের মতে, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষের সহযোগিতা পেলে এই মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
চলমান শৈত্যপ্রবাহে দাকোপ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খুলনা জেলা ইউনিট আবারও প্রমাণ করেছে—মানবতার সেবাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই ধরনের উদ্যোগ শুধু শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবই করে না, বরং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে দেয়। শীতের এই কঠিন সময়ে এমন মানবিক সহায়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।