মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল জেলার প্রত্যন্ত জনপদ কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম চাপাইল সেতু আজ যেন এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর পশ্চিম পারে নির্দিষ্ট পার্কিং বা টার্মিনালের অভাবে সড়কের ওপরই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মাহেন্দ্র, সাইকেল, মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে বাস ও ট্রাক পর্যন্ত। ফলে সেতুর ঢাল ও সংযোগ সড়কজুড়ে তৈরি হচ্ছে চরম যানজট ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুর পশ্চিম দিক থেকে যানবাহন যখন সেতুতে ওঠে, ঠিক একই সময়ে পূর্ব দিক থেকে নামতে থাকে একের পর এক গাড়ি। পাশাপাশি চাপাইল ঘাট অতিক্রমকারী যান চলাচলও অব্যাহত থাকে। সংকীর্ণ সড়ক, ঢালু অংশ ও এলোমেলো পার্কিং—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কেউ প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ গুরুতর আহত হয়ে আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। বহু পরিবার হারাচ্ছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে।
চাপাইল সেতুটি দিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা, খুলনা জেলা, বাগেরহাট জেলা ও নড়াইল জেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বজায় থাকে। ফলে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই এখানে যান চলাচল লেগে থাকে। কৃষিপণ্য, মাছ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকসহ দূরপাল্লার পরিবহনও এ সড়ক ব্যবহার করে। দ্রুতগতির যানবাহন সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারালে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। পার্কিংয়ের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় পরিবহন চালকেরা বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড় করান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের তদারকি দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেই। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিয়মিত পুলিশি নজরদারির অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মরছে বা পঙ্গু হচ্ছে—তবুও যেন কারও নজর নেই। আমরা কি বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছি?”
এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি—সেতুর দুই পাড়ে অবিলম্বে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন বা একটি ছোট টার্মিনাল স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি সেতুর ঢালে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্পষ্ট লেন চিহ্ন ও সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চাপাইল সেতু ও সংযোগ সড়ক ক্রমেই “মৃত্যুর উপত্যকা”য় পরিণত হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।