
ষ্টাফরির্পোটারঃ
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আলোচিত আনসারের সেই নারী কমান্ডার হোটেল শেফা আক্তারের বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে আনসারে চাকুরি গ্রহণ, নিয়োগে অনিয়মসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ইতি পুর্বে সম্প্রতি স্থানীয় ও অনলাইন একাদিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। বর্তমানে তার অতীত জীবনের নানান বিতর্কিত তথ্য প্রকাশ্যে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে।
জানাযায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল পশ্চিম পাড়া গ্রামের রিক্সাচালক আব্দুল খালেক ঘরজামাই হিসেবে দক্ষিন তেঘরিয়া জবেদা খাতুনের মেয়ে রহিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর অবাধ চলাফেরা ও পরকীয়ার কারণে দাম্পত্য জীবনে কলহের শুরু হয়। প্রায় চার পাঁচ বছর সংসার করার পর জন্ম নেয় কন্যা শেফা আক্তার। শেষপর্যন্ত স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুল খালেক তালাক দিতে বাধ্য হন রহিমা খাতুনকে, রহিমা ও ছিলেন একাদিক পুরুষ আসক্ত ও বিবাহিত।
অভাবী সংসারে বেড়ে ওঠা শেফা আক্তার অল্প বয়সেই নানা বিতর্কিত অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র নয় বছর বয়সেই লিপ্ত হয়ে পরেন অসামাজিক কাজে, অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সৌন্দর্যের কারণে এলাকার কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ সুযোগ কাজে লাগায় সেফা আক্তার। একাধিক বার অবৈধ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সালিশও হয়। পরবর্তীতে তার বিয়ে হয় বানিয়াচং উপজেলার উজিরপুর গ্রামে রিক্সাচালক তোফাজ্জল মিয়ার সাথে। বিবাহিত জীবনেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে,স্বামী তোফাজ্জল মিয়ার । স্বামীর উপেক্ষা নাকরে আরো অধিকতর ব্যপরোয়া হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অবাদ মেলামেশা ও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলায় দাম্পত্য জীবনে দেখা দেয় অশান্তি। এনিয়ে একাধিক বার সামাজিক সালিশের পরও অরৈধ মেলামেশার আচরন না বদলানোর কারনে তোফাজ্জল মিয়া ব্যার্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তালাক দিয়ে চলেযান সেখান থেকে।
তালাকের পর আরো অধিকত্বর ব্যাপরোয়া হয়ে উঠে সেফা আক্তার, নিজ বাড়িতে গড়ে তোলে জমঝমাট অসামাজিক কার্যকলাপের আসর। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিয়ত সন্ধা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই খদ্দেরদের আনাগুনায় মুখরিত হয়েউঠে সেফা আক্তার এর বসত বাড়ি,এনিয়ে গরুত্বর অভিযোগ রয়েছে স্হানিয়দের শেফা আক্তারের বিরুদ্ধে। এলাকার চাপের মুখে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে চলেযান ঢাকা নারাইনগঞ্জে। সেখানে প্রায় পাচ মাস বিভিন্ন হোটেলে চালিয়েছেন গুপনে দেহ ব্যবসা, আর সেই সুবাদেই হয়ে উঠেন টপটের হোটেল সেফা, গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তারপর ছুটে আসেন হবিগজ্ঞ শহড়ে লিপ্তহন মোবাইল ফোনে বিভিন্ন এলাকার উটতি বয়সী ছেলেদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে ব্যাকমেইল করে টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়ার নতুন কৌশল, এটা একধরনের চিন্তাই ও গুরুতর অপরাধ।
এই সুবাদে হবিগজ্ঞ সদর মডেল থানার তৎকালিন ওসি সুদীপ রায়ের এন্ড্রয়েট মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে আসেন নিজ বাড়িতে, রাত্র অনুমান ২, ৩০ ঘটিকায় হবিগজ্ঞ সদর মডেল থানার একদল পুলিশ সেফা আক্তারের বসত ঘড় ঘেরাও করে তল্লাশী চালিয়ে বসত ঘড়ের ভিতরে ইদুরের গর্ত থেকে উদ্ধার করেন মোবাইল ফোনসেট। এসময় পুলিশ হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে সেফা আক্তারকে থানায় নিয়ে যাইতে প্রস্তূতি নেন, পুলিশের পায়ে ধরে কাকুতি মিনতি করে বাচ্ছাদের দোহাই দিয়ে পুলিশের হাত থেকে মুক্ত হয় মোবাইল সেফা । একাজে জড়িয়ে অল্প সময়েই আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠে সেফা। মাটির দেয়ালে ছন বাঁশের ঝুপড়ি কুড়েঘড় থেকে পাকা বাড়ি পর্যন্ত তার উত্থান, এ নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনাও সমালোচনা।
বিগত সময়ে দৈনিক প্রতিদিনের বানীসহ স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক পত্রিকায় তার এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই উল্লেখযোগ্য কোনো ভুমিকা। ২০১৮ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা মহিলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে আনসার বাহিনীতে যোগ দেন হোটেল শেফা। এরপর থেকেই তার জীবনযাত্রায়, আচরণে আরো অধিকতর সাহসীকতার ভুমিকা লক্ষ্য করা যায়। ভুয়া শিক্ষাগত সনদের অভিযোগ, নিয়োগের সময় জমা দেওয়া সনদে শেফা দাবি করেন, ১৯৯৭ সালে সুকড়ি পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছে। কিন্তু সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিক দের অনুসন্ধানি টিম জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বাহাউদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিদ্যালয়ের রেজিস্টার খাতা পত্র যাচাই করে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এমনকি ওই বছরের আগে ও পরে, শেফা আক্তার নামে কোনো শিক্ষার্থীর নাম ঐ বিদ্যালয়ের রেকর্ডে নাই। এছাড়া বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ফরমের সাথে সেফা আক্তার এর ভুয়া বানানো প্রদত্ত শিক্ষা সনদের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরও জাল বলে গুরুত্বর অভিযোগ ওঠে প্রধান শিক্ষক বাহাউদ্দিন চৌধুরীর,এতে তার শিক্ষাগত সনদের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ, অভিযোগ রয়েছে চেহারা সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে তৎকালীন প্যাসিস হাসিনা সরকারের কিছু গুন্ডালীগের সাথে রাত্রিযাপন করে, তাদেরকে ব্যাবহার করে ওই সময়ে দায়িত্বেরত উপজেলা আনসার কর্মকর্তার উপর ছাপসৃষ্টি করে অবৈধ ভাবে চাকুরিতে যোগদান করেন হোটেল সেফা। তৎকালীন স্হানিয় আওয়ামীলীগ নেতা এবং দল ব্যাবহার করে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন, এমনকি শারদীয় দুর্গাপূজায় নামে বেনামে লোক নিয়োগ দিয়েছেন সেফা আক্তার। পাশাপাশি দায়িত্ব প্রাপ্ত সদস্যদের প্রাপ্য ডিউটির ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়মিত ভাবে করেছেন আত্মসাৎ । অনুসন্ধানে ধীরেধীরে বেড়িয়ে আসিতেছে তলের বিড়াল, একটি গুপন সুত্রে জানাযায় এসব গুরুতর অপরাধের সাথে জরিত রয়েছেন ঐ এলাখার স্হানিয় এক রিক্সাচালক এর ছেলে সাবেক টমটম চালক বর্তমান ভুইফুর সাংঘাতিকও। ঘটনার পুরো তদন্তের স্বার্থে একনও নাম প্রকাস করা যায়নি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেফা আক্তারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে সংস্লিষ্ট আনসার বাহিনির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানান সেফা আক্তারের জবাব দাখিলের জন্য চিঠি ইস্যুকরা হয়েছে আমরা এখনও পর্যন্ত তার কোন সুনির্দিষ্ট জবাব পাইনি, এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াদিন আছে। কর্তৃপক্ষের এমনি দায়সারা জবাবে হতাশাগ্রস্থ হচ্ছেন বাহীনির বিবেক বান সচেতন মহল। এবিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সেফা আক্তারের বিরুদ্দে একন পর্যন্ত নেয়া হয়নি আইনানুগ বলিষ্ট কোন পদক্ষেপ। সুশীল সমাজ দাবি করেন সেফা আক্তার এর বিরুদ্ধে সকল অপর্কমের অভিযোগ অনতি বিলম্বে সুষ্ঠতদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ঐসমস্ত অপরাধে তার সাথে আরও যারাই জরীত আছেন তাদের সকলকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা নেয়া হউক। এবিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তা বলেন শিক্ষাগত সনদ জাল তৈরী করে নিয়োগ অপরাধ গুরুতর, এবিষয়ে কারো লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা যথাযত আইনগত ব্যবস্থা নিব এবং ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যাবহার করে বিগত ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ হইতে চলিত ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সরকারের আত্বসাৎকৃত সকল সুবিধার অর্থ উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হবে মর্মে জানান দুদক কর্মকর্তা।















