সর্বশেষ:

বটিয়াঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি দখল করে গড়ে উঠছে মার্কেট ও পাকা ভবন

Facebook
Twitter
LinkedIn

নিজস্ব প্রতিবেদক :

খুলনার বটিয়াঘাটায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি সম্পত্তি দখল করে একের পর এক পাকা ভবন ও মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদারদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সুন্দরমহল বাজারের পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন প্রায় ০.৭৫ একর জমি বালু ভরাট করে দখল করা হয়েছে। ওই জমির ওপর ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বহু পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ২৯ নম্বর পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত এই এলাকায় বর্তমানে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পাকা স্থাপনা নির্মিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি দখল করে ভবন নির্মাণের পর অনেকেই সেগুলো আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে করে দখলের পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি দখলদারদের প্রভাবও ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। পাকা ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমিটি তাদের আওতাভুক্ত নয়। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ারও তাদের নেই। জমির মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড হওয়ায় উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব তাদেরই।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কেউ প্রশ্ন এড়িয়ে যান, কেউ আবার নানা অজুহাত দেখান। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দখলকারীদের বিরুদ্ধে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পুরো এলাকা দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।এ বিষয়ে সুন্দরমহল বাজার কমিটির সভাপতি ও ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কাশেম গাজী বলেন, “জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলেও কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন। এলাকার ব্যবসার স্বার্থে আমরা বালু ভরাট করে মার্কেট করেছি।”

বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান বলেন, “সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। অথচ একটি প্রভাবশালী মহল প্রকাশ্যে এসব নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে।”
সাবেক ইউপি সদস্য শাহারুল বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি মহল অবৈধ পাকা ভবন নির্মাণ করছে। নিষেধ করলেও তারা কর্ণপাত করছে না। এখানে ছোট-বড় অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পাকা স্থাপনা রয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি সম্পত্তি সুরখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব জাকির হোসেনের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জামায়াতে ইসলামীর ৪নং সুরখালী ইউনিয়ন আমির মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “আমরা চাই বাজারটি উন্মুক্ত ও দখলমুক্ত থাকুক।”বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শোয়েব শাত-ঈল-ইভান জানান, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে সুরখালী ভূমি অফিসের নায়েবকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। পরে জানা যায়, জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন। ফলে উচ্ছেদের দায়িত্ব তাদেরই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana