সর্বশেষ:

আমের মুকুলে মুখর কালিয়া-নড়াগাতীর প্রত্যন্ত গ্রাম, সুবাসে ভরে উঠেছে জনপদ—ভালো ফলনের প্রত্যাশা

Facebook
Twitter
LinkedIn

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী

বিশেষ প্রতিনিধি, নড়াইল

বসন্তের শুরুতেই আমের মুকুলে সেজে উঠেছে কালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ও নড়াগাতী এলাকার গ্রামগুলো। কলাবাড়িয়া, জয়নগর, খাশিয়াল, মাউলী, বাঐশোনা ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদে এখন ডালে ডালে সোনালি-সবুজ মুকুলের সমারোহ। মৃদু বাতাসে ভেসে আসছে আম্র-মুকুলের মিষ্টি সুবাস, আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা।সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনার পুরনো আমগাছ থেকে শুরু করে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা বড় বড় বাগান—সবখানেই মুকুলের ছড়াছড়ি। কোথাও গাছের ডগায় থোকায় থোকায় মুকুল, কোথাও বা পুরো গাছজুড়ে সোনালি আভা। ভোরের কোমল আলোয় মুকুলে ঢাকা গাছগুলো যেন প্রকৃতির নিজস্ব সাজে সেজেছে। বিকেলের নরম রোদে সেই দৃশ্য আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে।আমের মুকুল ফুটতেই বাগানজুড়ে বেড়েছে মৌমাছির আনাগোনা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অসংখ্য মৌমাছি মুকুলে বসে মধু আহরণ করছে।এই মৌমাছির উপস্থিতি ফলনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরাগায়নের মাধ্যমে গুটি ধরার হার বৃদ্ধি পায়, ফলে উৎপাদনের সম্ভাবনাও বাড়ে।পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগান মালিক শওকত দাড়িয়া বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর মুকুল ভালো এসেছে। এখন যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।

পানিপাড়া এলাকার খবির উদ্দিন জানান, “মৌমাছির গুঞ্জন শুনলেই মনে সাহস পাই। এটা ভালো লক্ষণ।”আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে ফলনের ভবিষ্যৎ কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুকুল আসার পরের কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত কুয়াশা, অকাল বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া বা শিলাবৃষ্টি হলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তারা এখন নিয়মিত বাগান পরিচর্যার পাশাপাশি আবহাওয়ার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।কালিয়া কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা গেলে মুকুল থেকে গুটি ধরে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি গাছের গোড়ায় আগাছা পরিষ্কার ও সেচ ব্যবস্থার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কালিয়া উপজেলার এসব ইউনিয়নে আম চাষ বহু পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। মৌসুমে স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ফলে মুকুলের প্রাচুর্য কৃষকদের মাঝে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনি দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে।মাউলী ও বাঐশোনা ইউনিয়নের কয়েকজন চাষি জানান, ভালো ফলন হলে পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি কিছুটা সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তাই মুকুলের বর্তমান অবস্থা তাদের কাছে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং জীবিকার প্রত্যাশা।আমের মুকুলে ভরা গাছগুলো এখন গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্যকে নতুন করে তুলে ধরছে। সন্ধ্যার হালকা বাতাসে ভেসে আসা সুবাসে চারপাশ হয়ে উঠছে মনোরম। শিশু-কিশোরেরা বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বড়রা ফলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। সব মিলিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এখন বসন্তের এক প্রাণবন্ত আবহ বিরাজ করছে।এখন সবার দৃষ্টি আগামী কয়েক সপ্তাহের দিকে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে মুকুল থেকে গুটি ধরে পরিপূর্ণ আমে রূপ নিতে বেশি সময় লাগবে না। কৃষকদের আশা, প্রকৃতি সহায় হলে এ বছর আম উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana