
আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা ( খুলনা )
দীর্ঘ পাঁচ বছরের জটিলতা, আইনি প্রতিবন্ধকতা ও জনদুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সম্পন্ন হলো পাইকগাছার কপিলমুনি ফকিরবাসা মোড়ের বহুল আলোচিত বাঁক সরলীকরণ কাজ। সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কার্যক্রমে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকি এবং কড়া নজরদারির ফলে কাজটি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, যানবাহন চালক ও পথচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কপিলমুনির ফকিরবাসা মোড়কে ঝুঁকিমুক্ত ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বাঁক সরলীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অধিগ্রহণকৃত প্রায় সাড়ে ১১ শতক জমির মালিকদের সঙ্গে নকশা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত মতবিরোধ এবং আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজটি স্থগিত ছিল। এর ফলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে সড়কের ওই অংশটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে পানি জমে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হন। বাজার এলাকার পানি নিষ্কাশন ড্রেনের ওপর মাটি স্তুপ করে রাখার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, কয়রা-খুলনা ভায়া পাইকগাছার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহন চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটত। বর্ষাকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। গত ৬ জুন সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর, খুলনা এবং পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে ফকিরবাসা মোড়ের বাঁক সরলীকরণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তা সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডুমুরিয়া, তালা, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেতগ্রাম-কয়রা আঞ্চলিক মহাসড়ককে দুই লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কের ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০২০ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দু’দফা মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি করেও কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক অটোক্যাড সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত নকশা অনুসারেই বাঁক সরলীকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। তারা আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এবং কিছু অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দিয়ে জনস্বার্থে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে ফকিরবাসা মোড়ের বাঁক সরলীকরণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত অবশিষ্ট সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন














