সর্বশেষ:

songjog sorok hin noliya setu

সংযোগ সড়কহীন নলিয়া সেতু: ৫ কোটির অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে ‘নীরব দর্শক’ হয়ে চালুর অপেক্ষায় কোটি টাকার সেতু, পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ পথেই চলছে জনদুর্ভোগ

songjog sorok hin noliya setu
Facebook
Twitter
LinkedIn

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া বাজারসংলগ্ন নলিয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সেতুটি সংযোগ সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। অত্যাধুনিক এ অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় অ্যাপ্রোচ রোড না থাকায় সেতুটি এখনো যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও সরকারি বিনিয়োগ—দুটিই যেন আটকে আছে অসমাপ্ত সংযোগের কাছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কালিয়া পাবলিক লাইব্রেরি-যোগানিয়া জিসি সড়কের ৫১২০ মিটার চেইনেজে প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৪৫ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ১৫ লাখ ২৫ হাজার ৪২১ টাকা। নির্মাণকাজের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৩ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত।

songjog sorok hin noliya setuu

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতে হাজারো মানুষকে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষক ছগির মৃধা বলেন, “সেতুর উত্তর-পূর্ব পাশে কলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাঁচাবাজার এবং দক্ষিণ পাশে কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় নতুন সেতুটি কোনো কাজে আসছে না।” স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ মানুষ সেটি ব্যবহারই করতে পারছে না। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালু করা প্রয়োজন।”

এলাকার বাসিন্দাদের মতে, সেতুটি চালু হলে কলাবাড়িয়া, যোগানিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি অব্যবহৃত থাকায় সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।”

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana