সর্বশেষ:

পার-বটিয়াঘাটায় এলজিইডির সড়ক কার্পেটিংয়ে চরম অনিয়ম : শুরুতেই নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার কাজ

Facebook
Twitter
LinkedIn

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বটিয়াঘাটা উপজেলার পার-বটিয়াঘাটা এলাকায় এলজিইডির আওতায় চলমান সড়ক কার্পেটিং কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের এই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিয়াউল ট্রেডার্স। কাজ শুরুর পর থেকেই রাস্তার মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন অংশে কোনো ধরনের মানসম্মত হ্যাজিং না দিয়েই তড়িঘড়ি করে পিচ ঢালাই করা হচ্ছে। ফলে পিচ বসার আগেই উঠে যাচ্ছে, কোথাও রাস্তার মাঝখান ডেবে যাচ্ছে এবং দুই পাশ অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ যান চলাচল করলেই রাস্তা দেবে যাচ্ছে, যা কাজের নিম্নমানের স্পষ্ট প্রমাণ। অভিযোগ রয়েছে, কাজে ব্যবহৃত পিচ ও পাথর অত্যন্ত নিম্নমানের। পাথরের সাইজ অসম এবং কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। পিচ ঢালাইয়ের পরপরই কোথাও ঢেউ, কোথাও ফাটল দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মুদি দোকানদার নিরাপদ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা রাস্তা নয়, মনে হচ্ছে শুধু লোক দেখানো পিচ ছিটানো হয়েছে। কয়েকদিন গেলেই সব উঠে যাবে। আরও গুরুতর অভিযোগ করে সন্ধ্যা মন্ডল, কবিতা মহালদার, হেমা মন্ডল, মিরু মন্ডল, মিনতী রানী, রাধা রানীসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভারী রোলার দিয়ে চাপ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

কোথাও নামমাত্র চাপ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও দায়সারা ভাবে রুলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পিচ ঠিকভাবে বসছে না এবং গাড়ি চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা নরম হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এর চেয়ে আগের ইট সোলিং রাস্তার অবস্থাই ভালো ছিল। কাজের এমন চিত্র দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইউপি সদস্য পপি তরফদার বলেন, আমি নিজে গিয়ে কাজ দেখে এসেছি।

এভাবে কাজ হলে রাস্তা টিকবে না, এটা চোখ বন্ধ করেও বলা যায়। আরেক জনপ্রতিনিধি প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা এলাকায় নিজেরাই নানা সমস্যায় আছি। তবে কাজে অনিয়ম হয়েছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলজিইডি বটিয়াঘাটা অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, অনেক সময় রাস্তার পাশে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে ভারী রোলার চলাচল করতে পারে না, সে কারণে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে। এছাড়া কাজটি ২৮ আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেশের পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। সময় বাড়িয়ে কাজ পুনরায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর পার-বটিয়াঘাটার মানুষ এই সড়কটি নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু অনিয়ম ও অবহেলার কারণে সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কোটি টাকার এই প্রকল্পটি শুরুতেই নষ্ট হয়ে যাবে এবং বহুল প্রতীক্ষিত সড়কটি দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়েই শেষ হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana