
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার বেতগ্রাম–কয়রা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ, উচ্ছেদ কার্যক্রম এবং নকশা সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্র জানায়, খুলনার তিনটি উপজেলা ও সাতক্ষীরার একটি উপজেলার ওপর দিয়ে বেতগ্রাম–তালা–কপিলমুনি ও পাইকগাছা–কয়রা অংশ মিলিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪টি বাঁক সরলীকরণের জন্য ২০২০ সালে কাজ শুরু হলেও আইনি জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি কপিলমুনি বাজার এলাকায় সড়কের বাঁক সরলীকরণ কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, বর্তমান নকশা অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হলে সড়ক পুরোপুরি সোজা না হয়ে বরং নতুন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের সৃষ্টি হতে পারে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সামনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন। গত ৬ ডিসেম্বর সওজ কপিলমুনি বাজার এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় কপিলমুনি সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার একটি ভবনের অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, “সড়ক উন্নয়ন কাজ অনুমোদিত নকশা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনস্বার্থ ও সড়ক নিরাপত্তা আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কোনো স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী নোটিশ ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর আপত্তির বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনে কারিগরি পর্যায়ে নকশা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংগঠনের উদ্যোগে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়। গণশুনানিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানি শেষে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপংকর দাশ বলেন, “জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি ও কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ১৮ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্তদের একটি প্রতিনিধি দল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উচ্ছেদ ও নকশা সংক্রান্ত বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধী নন; তবে জননিরাপত্তা ও যুক্তিসঙ্গত নকশার ভিত্তিতে কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।















